নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে সাবেক সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উদ্দেশ করে দেওয়া তীব্র বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন আইভীকে উদ্দেশ করে একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তার বক্তব্যের পর বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হলে বিচার নিশ্চিত করা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, গণআন্দোলনের চেতনাকে অস্বীকার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উদ্দেশ করে বলেন, আন্দোলনের সময় জনগণের অবস্থান এবং বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে সবার আত্মসমালোচনা করা উচিত। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই অবস্থানের ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে কীভাবে দেবেন?” তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এসেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

সিরাজুল মামুন আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে জনগণের প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তার মতে, ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে হলে জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গণআন্দোলনের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। তারা বলেন, জনগণের রায় এবং আন্দোলনের ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতের রাজনীতি পরিচালনা করা উচিত। অন্যথায় জনগণই এর জবাব দেবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য সামনে আসবে। তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এদিকে সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নই এখন সময়ের প্রধান দাবি। তারা মনে করেন, অতীতের রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক এই বক্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান এবং এ ধরনের বক্তব্যের প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এসব বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক সংলাপ এবং জনমতের দিকেই সবার নজর থাকবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version