নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান চলাকালে ইসলামী সংগীত পরিবেশনের সময় শহীদ মিনারের পেছনের পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে হঠাৎ দুই ব্যক্তি দর্শকদের লক্ষ্য করে দুটি হাতবোমা সদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। মুহূর্তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা ঘটনাস্থলেই দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদুর রহমান এবং ফতুল্লার পাগলা এলাকার শাহ আলম সরদারের ছেলে লোকমান সরদার।
ঘটনার পর মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। এ সময় শহীদ মিনারের পাশ থেকে দুই ব্যক্তি দর্শকদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা নিজেদের আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের অনুসারী বলে পরিচয় দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসে। তাদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো দেশীয়ভাবে তৈরি ‘পটকা’ জাতীয় বস্তু বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এগুলোতে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি হলেও স্প্লিন্টার বা প্রাণঘাতী উপাদান ছিল না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।
রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং অনুষ্ঠানস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
