নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার একটি পুকুরে মাছ ধরার সময় জেলের জালে উঠে এসেছে একটি শটগান। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হয়েছে, অস্ত্রটি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর একটি। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সিপাহিপুর এলাকায় রেজাউল নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় একটি পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। মাছ ধরার একপর্যায়ে জালে ভারী ধাতব কিছু আটকে যায়। প্রথমে সেটিকে সাধারণ কোনো লোহার বস্তু মনে হলেও পানি থেকে তুলে দেখা যায়, সেটি একটি শটগান। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানার অস্ত্রাগারের রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় শটগানটির নম্বর। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের তালিকাভুক্ত একটি শটগান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির বাট নম্বর ৬৫১। আন্দোলনের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে এটি একটি ছিল। দীর্ঘদিন পানির নিচে পড়ে থাকায় অস্ত্রটিতে মরিচা ধরেছে। কীভাবে এটি ওই পুকুরে পৌঁছাল, কে বা কারা সেখানে ফেলে রেখেছিল এবং কতদিন ধরে এটি পানির নিচে ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুকুরটিতে নিয়মিত মাছ ধরা হলেও এর আগে কখনো এমন কিছু পাওয়া যায়নি। হঠাৎ একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ দুই-ই তৈরি হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, থানা থেকে লুটের পর কোনো একসময় অস্ত্রটি গোপনে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।

আড়াইহাজার থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি নিরাপদে থানায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। অস্ত্রটি ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করা হবে কি না এবং এটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। পাশাপাশি অস্ত্রটি কীভাবে থানা থেকে বের হয়ে ওই স্থানে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে এ ধরনের ঘটনা তদন্তে নতুন সূত্র দিতে পারে। এর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনও বেশ কয়েকটি অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি। তাই উদ্ধার হওয়া এই শটগানকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং সেগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version