নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ

সরকারি তোলারাম কলেজে সাম্প্রতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একসময় আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে একই মঞ্চে সক্রিয় থাকা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির এখন রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরকারি তোলারাম কলেজে আয়োজিত একটি আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য সংঘর্ষ। দীর্ঘ সময় পর কলেজ ক্যাম্পাসে এমন সহিংস ঘটনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর সক্রিয়তা বেড়েছে। এর ফলে সাংগঠনিক অবস্থান, কর্মসূচি এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক স্থানে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। তোলারাম কলেজের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছেন তারা।

এদিকে সংঘর্ষের জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, আলোচনা সভা শেষে তাদের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় পরিকল্পিতভাবে হামলার শিকার হন। সংগঠনের দাবি, এতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দাবি, উসকানিমূলক বক্তব্য ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তাদের অভিযোগ, প্রথমে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেই হামলা চালানো হয়, পরে আত্মরক্ষার্থে তাদের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় কলেজ ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন এবং কিছু সময়ের জন্য ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনেন।

নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্র হতে পারে না। মতপার্থক্য থাকলেও তা সংলাপ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কলেজ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version