স্টাফ রিপোর্টার | নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাষাঢ়া-আদমজী সড়কে অবস্থিত দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে একটি স্থানীয় গণমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদদের’ স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিকে ঘিরে স্মৃতিস্তম্ভটি চারপাশ থেকে কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা দূর থেকে জ্বলন্ত কাপড়ের একটি ছোট দলা ছুড়ে মারলে সেটি স্মৃতিস্তম্ভের পাশে ঝুলানো কাপড়ে গিয়ে লাগে এবং আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব বলেন, উদ্বোধনের পর থেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। আগুন লাগার বিষয়টি দ্রুত নজরে আসায় দায়িত্বরত সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল না, তবে ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, অগ্নিসংযোগে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা শুধু একটি স্থাপনার ওপর হামলা নয়, বরং শহীদদের স্মৃতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধনের পর থেকেই সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সাম্প্রতিক এই অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version