নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপির এক নেতার বক্তব্য। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে কোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য বা কটূক্তি বরদাশত করা হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে শহরের চাষাঢ়া মিশনপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেজা রিপন বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করলে তার জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, দলের নেতাকর্মীরা তাদের নেতৃত্বের সম্মান রক্ষায় সবসময় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

বক্তব্যে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন বা অসম্মানজনক মন্তব্য করা হলে তা শুধু একজন নেতাকে নয়, পুরো দলের কোটি কোটি সমর্থকের অনুভূতিতে আঘাত হানে।

এ সময় রেজা রিপন নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার বিষয়ে তার কাছে তথ্য ও নথি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। যদিও এসব তথ্যের পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সেসব তথ্য ভবিষ্যতে জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।

সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের অবদান অস্বীকার করে নতুন করে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন যে, নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি জেলায় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ গণপ্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান।

সমাবেশে উপস্থিত বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জেও সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক সংলাপ ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখতে কতটা সক্ষম হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version