নিজস্ব প্রতিবেদক | রূপগঞ্জ

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া-নরপাড়া এলাকায় বালু নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহুল প্রতীক্ষিত ‘বালু ব্রিজ’-এর কাজ শুরু হওয়ার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতা, দফায় দফায় প্রকল্প পরিবর্তন এবং অর্থায়ন জটিলতায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি আজও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতু নির্মাণের দাবিতে গত দুই দশকে বহুবার সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। বর্তমানে সেতুর দুটি পিলার, পিলার ক্যাপ, একাংশের অ্যাবাটমেন্ট এবং সংযোগ সড়কের কিছু কাজ দৃশ্যমান থাকলেও পুরো প্রকল্প কার্যত থমকে রয়েছে। ফলে নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন পড়ে থেকে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে রূপগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১১ থেকে ১৩ কিলোমিটার কমে আসবে। বর্তমানে মাত্র একটি সেতুর অভাবে রাজধানীতে যেতে এলাকাবাসীকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়। অথচ সেতুটি চালু হলে মাত্র ২০ মিনিটেই ঢাকা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাবিলা-কায়েতপাড়া-ডেমরা সড়কে বালু নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০০১ সালে। মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্স লিমিটেড কাজের দায়িত্ব পেলেও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করার পর আর কোনো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, নকশা ও প্রকল্প সংশোধনসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজ আরও বিলম্বিত হয়। ২০২১ সালে নতুন করে প্রায় ১৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে পুনরায় কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটিও শেষ পর্যন্ত পূর্ণগতিতে এগোয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, বালু সেতু নির্মিত হলে রূপগঞ্জের পাশাপাশি আশপাশের লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, নতুন শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কাঁচপুর ও ভুলতা সেতুর ওপর যানবাহনের চাপও অনেকটা কমে আসবে।

নরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বালেন আহমেদ বলেন, “বাবা-দাদার কাছ থেকে শুনে আসছি, এখানে সেতু হবে। কিন্তু এত বছরেও কাজ শেষ হয়নি। সেতুটি চালু হলে কৃষকরা সহজেই তাদের কৃষিপণ্য ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন।”

একই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কত সরকার এল-গেল, কিন্তু বালু সেতুর কাজ শেষ হলো না। এখনো আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না, কবে সেতুটি চালু হবে।”

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) ফেরদৌস জানিয়েছেন, কায়েতপাড়া-নরপাড়া এলাকায় বালু নদীর ওপর সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো প্রকল্প। তিনি দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version