নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নগরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কলেজে আয়োজিত একটি আলোচনা সভাকে ঘিরে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা অল্প সময়ের মধ্যেই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে দেওয়া কয়েকটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে কলেজের আশপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সংঘর্ষের জন্য উভয় সংগঠনই একে অপরকে দায়ী করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের দাবি, তাদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ, উসকানিমূলক বক্তব্যের জের ধরেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং তাদের কর্মীরাও হামলার শিকার হন।

কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালে কলেজের ভেতরে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর কলেজ গেটের বাইরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যারা সংঘর্ষে সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র না বানিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, কলেজ ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

এদিকে ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ক্যাম্পাসে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version