সোনারগাঁও প্রতিনিধি :
আগামী ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ভয়াবহ নাশকতার চক্রান্ত ও গোপন পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে।নারায়ণগঞ্জ-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ৭ খুনের মামলার অন্যতম আসামী নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহচর সোনারগাঁও উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের বিরুদ্ধে ।
পলাতক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনায় অরাজকতার সৃষ্টিত,অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তিনি অর্থ ও মাঠ পর্যায়ে প্রত্যক্ষ সহযোগীতা জোগাচ্ছেন বলে একাধিক স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন ।

১৫ই আগস্টে অরাজকতার প্রস্তুতি ও ঝটিকা মিছিল-
সূত্র জানায় ৫ই আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জের অনেক প্রভাবশালী নেতা আত্মগোপনে বা বিদেশে চলে যায় । কিন্তু কালাম ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে সোনারগাঁওয়ে কিভাবে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে অস্থিতিশীলতা পরিবেশ তৈরি করা যায় তার পায়তারা চালাচ্ছে ।
কালামের অতি ঘনিষ্ট এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কে খুশি রাখতেই তার এই নাশকতার মিশন এবং তার চিন্তা ধারা হল আওয়ামীলীগ পুনর্বাসিত হলে সে ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে নৌকার টিকিট বাগিয়ে আনতে পারবে ।
ওবায়দুল কাদের তাঁকে স্থানীয় আওয়ামীলীগের এমপির চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করে কারণ কালাম ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকেই দাঙ্গা-হাঙ্গামা,অগ্নি সংযোগ বিস্ফোরক দ্রব্য বানাতে পারদর্শী ।
গতবছর ডা. ইউনুস সরকারের আমলে প্রশাসনের কঠোরতায় সে ১৫ই আগস্ট ২০২৫ সালে কাউকে মাঠেই নামাতে পারেনি । তখন খোদ ওবায়দুল কাদেরও তার উপর অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেন । বিএনপি সরকারের এই আমলে সোনারগাঁও তথা নারায়ণগঞ্জে তার বহু বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা ও ভালো সম্পর্ক থাকার কারণেই সে ১৫ই আগস্টকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের শো-ডাউন ও নাশকতার পরিকল্পনা করেন আর সেই নির্দেশ মোতাবেক তার বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে ।

অস্ত্র,অর্থ ও ক্যাডার বাহিনীর সমন্বয়-
স্থানীয়দের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও এলাকার নিজস্ব অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন কালাম।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের দমনে বিপুল অর্থের জোগান দেয়ার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।
বর্তমানে এই চক্রটি এলাকার চোরাগোপ্তা বৈঠক,গোপন তৎপরতা,কিশোর গ্যাং এবং মাদক কারবারীদের পাশাপাশি রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া বস্তি ও মেঘনা উপজেলা থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী প্রস্তুত রেখেছে ১৫ই আগস্টকে ঘিরে সোনারগাঁওয়ে ভয়াবহ নাশকতার জন্য এবং তার আপন ছোট ভাই ভূমিদস্যু ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি এবং সদ্যপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন । সে প্রায় ঢাকা থেকে সোনারগাঁওয়ে আসেন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত অবস্থায়,নিজের প্রাইভেট কার ব্যবহার না করে পাঠাও রাইড শেয়ার করে।পাশাপাশি মাসুমের নির্দেশে সেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষে সোনারগাঁওয়ে খণ্ড খণ্ড ঝটিকা মিছিল বের করে ।
অভিযোগ গুলোর বিষয়ে কথা বলতে মাহফুজুর রহমান কালামের মুঠোফোনে (01715711411) একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় ।

সোনারগাঁও বাসীর প্রত্যাশা প্রশাসনের উপর-
স্থানীয় জনমনের প্রশ্ন হল কালামের নির্দেশনায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী যদি সোনারগাঁওয়ে বড় ধরনের নাশকতা চালায় তাহলে আইন শৃঙ্খলার অবনতির পাশাপাশি জনগণের জান মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হবে।তার এলাকার একলোক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি জানান কিছুদিন পূর্বে সোনারগাঁও থানা পুলিশ তাদের দুই ভাইকে ধরতে সোনারগাঁওয়ের পৈতৃক বাড়িতে আসেন এবং পুলিশের আগমন টের পেয়ে তারা দুই ভাই পাশের বাড়িতে রাত্রি যাপন করে পরের দিক ঢাকা পালিয়ে চলে আসে।পুলিশের এই অভিযানে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।তাদের ধারণা পুলিশ প্রশাসন চাইলে কোনো অপরাধীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক করতে পারে কিন্তু কোন অদৃশ্য ইশারায় তারা দুই ভাই ৫ই আগস্টের পর দুই বছর যাবৎ ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
এই বিষয়ে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সরকারি মুঠোফোনে ফোন দিয়ে সংযোগ পাওয়া যায়নি এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version