স্টাফ রিপোর্টার:
সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি টং-ঘর ও বিভিন্ন স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপদের উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এই অভিযানে সেখানকার প্রায় পাঁচ শতাধিকের উপরে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, তারা জমানো পুঁজি দিয়ে অধিক এডভান্সে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের থেকে সরকারী জায়গায় ভাড়ায় দোকান নেন। হঠাৎ উচ্ছেদে তাদের মালামাল নষ্ট হয় এবং পুঁজি শেষ হয়ে যায়। বিকল্প কোনো ব্যবসার জায়গা না দিয়ে উচ্ছেদ করায় তারা পরিবার নিয়ে বিপদে পড়েছেন। তারা আরও বলেন, প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক বা আর্থিক ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যান সরকারী জায়গায় তাদের বড় বড় স্থাপনা ঠিকই থাকে, শুধু থাকে না আমাদের মতো ছোট ছোট দোকানগুলি।
সাধারণ জনগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইন কেবল গরিব বা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্যই কঠোর যেখানে সওজের জায়গায় মিঠাই মিষ্টি মতো পাকা স্থায়ী দোকান বহাল থাকে। থাকেনা শুধু মাত্র সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা অস্থায়ীভাবে দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থানীয় সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসলে তারা তাদের এই অভিযোগ গুলো তুলে ধরবেন বলে জানান।
জনদুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয় সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান গত মাসকয়েক আগে (২ মার্চ-২০২৬) সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সভায় আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের মাননীয় সাবেক সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার পুরা মার্কেট, চৌরাস্তার বাজার- সব সরকারি জায়গায়। জনগনের চলা চলের সুবিধা ও যানজট নিরসনে নবীগঞ্জ থেকে তালতলা পর্যন্ত রাস্তাটা ৬০ ফিট হওয়ার জন্য পাশ হয়েছিল। খোকা সাহেবের মার্কেট মাঝে পরে বলে কাজটি বাতিল করে দিয়েছিল। তিনি আরো বলেন জনগনের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে আমাদের ছোট ছোট স্বার্থগুলি ত্যাগ করতে হবে।
প্রসাশনের কাছে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,
সরকারি জায়গা উদ্ধারে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পক্ষপাতহীনভাবে সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে খাস জমি সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার না করলে এই ধরনের সরকারি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
যখন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবৈধ স্থাপনা বহাল থাকে, তখন তাকে সিলেক্টিভ এভিকশন বা আংশিক উচ্ছেদ বলা হয়।
