নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ টাইমস ২৪
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক শতকত আলী বিএনপির বিভিন্ন নেতার সম্পদ, আয় এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কতিপয় নেতার সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্ত করে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের আয়-সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের আহ্বান জানান।
সম্প্রতি দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টে শতকত আলী লেখেন, “সারাদেশ বাদ দিন, শুধু নারায়ণগঞ্জের বিএনপির বিভিন্ন নেতার ৫ আগস্টের পরের হিসাবটা কষে দেখলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। কে কত অর্থ উপার্জন করেছে, কার নামে নতুন বাড়ি-গাড়ি হয়েছে—এসব তথ্য জনগণের সামনে আসা উচিত।”
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বললেই অনেক অভিযোগ উঠে আসে। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এমনকি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব অভিযোগের মধ্যে চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার, অবৈধ অর্থ আদায় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের বিষয়ও রয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে শতকত আলী আরও অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু পরিবার মামলা-সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে দুর্ভোগে রয়েছে এবং কেউ কেউ নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান-এর সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন।
শতকত আলী তার পোস্টে লিখেছেন, “তাহলেই বোঝা যাবে জুলাই কারা বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, কারা লুটপাট করেছে এবং পরে অন্যের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।” তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে সব পক্ষের সম্পদের উৎস এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা জরুরি।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আবার অন্যরা অভিযোগগুলো প্রমাণসাপেক্ষ হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন।
তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত শতকত আলীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনপরিসরে উত্থাপিত এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে যেমন জনমনে বিভ্রান্তি কমবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, যেকোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম কিংবা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি অধিকার ও ন্যায্য অবস্থানও সমানভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।
