নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ টাইমস ২৪ ডটকম
নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (মেগা) প্রকল্প চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে আগামী সেপ্টেম্বরেই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ এলিভেটেড (দোতলা) সড়ক জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এলিভেটেড অংশের মূল অবকাঠামো নির্মাণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন বিটুমিন, ফিনিশিং, নিরাপত্তা ব্যারিয়ার, সড়কচিহ্ন ও আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
সেপ্টেম্বরে চালু হতে পারে এলিভেটেড সড়ক
প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার প্রকৌশলী জয়কৃষ্ণ হক জানান, দোতলা সড়কের অবশিষ্ট কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর নিরাপত্তা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এলিভেটেড অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের বাকি অংশের কাজও সমান্তরালভাবে চলবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রকল্পে যা থাকছে
প্রায় ১০.৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করিডোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় রয়েছে—
- ২.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ২ লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
- ৭ কিলোমিটার অ্যাট-গ্রেড (নিচতলা) সড়ক উন্নয়ন
- র্যাম্প ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ
- তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু সংলগ্ন নতুন সংযোগ ব্যবস্থা
- চার লেন ও আট লেন সড়কের সমন্বিত নকশা
- একাধিক টোল প্লাজা ও ওজন পরিমাপ (ওয়েইং) স্টেশন
কমবে যানজট, বাড়বে শিল্পাঞ্চলের সংযোগ
প্রকল্পটি চালু হলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সিলেটমুখী যানবাহনের চলাচল আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বিসিক শিল্পনগরী, ফতুল্লা, পঞ্চবটি, মুক্তারপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন সহজ হবে। প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক ও ভারী যানবাহনের যাতায়াতেও সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু যানজট কমবে না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ব্যয় ও অগ্রগতি
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানোর পর বর্তমানে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
