নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন বন্ধ ও ইতোমধ্যে স্থাপন করা মিটার বাতিলের দাবিতে গণমিছিল করেছে ‘নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম’। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রিপেইড মিটার চালুর মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনোভাবেই এ ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে শহরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি তুলে ধরেন। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই অর্থ পরিশোধের এই পদ্ধতি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তারা অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে প্রিপেইড মিটার কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথম দাবিতে বলা হয়, প্রিপেইড মিটারের সব কার্যক্রম বাতিল করতে হবে। যেসব গ্রাহকের অজান্তে বা পূর্বানুমতি ছাড়া প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সরিয়ে আগের ডিজিটাল মিটার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
দ্বিতীয় দাবিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বাতিল, স্ল্যাবের নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের পদ্ধতি বন্ধ, ৫০০ ইউনিটের নিচে সব স্ল্যাব বাতিল এবং মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তৃতীয় দাবিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে—এমন বক্তব্য বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে সংগঠনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই কেন গ্রাহককে বিল দিতে হবে—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে ডিপিডিসি সরে না এলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। এমনকি ভবিষ্যতে হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সমাবেশে সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ প্রিপেইড মিটার প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগও তোলেন। তিনি এটিকে আগের সরকারের সময়ের একটি প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে এই ইস্যু ব্যবহার করে নতুন সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমনটাই তিনি মনে করেন। এটি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বক্তব্য।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, হাজী রুহুল আমিন, এস এম সাজিম আহমেদ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম জাগু, চাষাঢ়া পঞ্চায়েতের যুগ্ম সম্পাদক মো. নুরুল হুদা, মিশনপাড়া পঞ্চায়েতের যুগ্ম মহাসচিব জাহিদ আহাম্মেদ এবং বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমনসহ অনেকে।
এদিকে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে তাদের কর্মসূচি এখানেই শেষ হচ্ছে না। ১২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও গণকমিটি গঠন করা হবে। এরপর ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গণঅবস্থান কর্মসূচি এবং ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনের সামনে গণঅবস্থান করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতারা বলছেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। তাদের দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এই প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ এবং গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রিপেইড মিটার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলমান এই আন্দোলন আগামী দিনে কতটা বিস্তৃত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর নগরবাসীর।
