নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের বিশনন্দী মধ্যপাড়া এলাকায় একটি চলতা গাছ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে স্থানীয়দের খবরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত যুবকের নাম নাজিম আহমেদ (২৪)। তিনি উপজেলার বিশনন্দী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল আলীর ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক সপ্তাহ বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তার স্ত্রী নবজাতক সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার সকালে গ্রামের একটি চলতা গাছের মগডালে একজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান কয়েকজন পথচারী। বিষয়টি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, নাজিমকে আগের দিন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। ফলে হঠাৎ এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ ঘটনার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই করা হচ্ছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবুজ হোসেন জানান, বিশনন্দী মধ্যপাড়া এলাকার একটি চলতা গাছ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যদি তদন্তে অন্য কোনো তথ্য বা অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জনগণকে গুজব বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর মন্তব্য থেকে বিরত থাকারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
