নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি পরিহার না করলে একই ধরনের জবাবের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাদের ভাষায়, “ইট মারবেন তো পাটকেলও খেতে হবে।”
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে নগরীর ডিআইটি মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি নেতা আবুল কাউছার আশা এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী নিজের বিরুদ্ধে হওয়া একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়াকে যেভাবে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন, একইভাবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কটূক্তিও দলটির লাখো নেতাকর্মীর হৃদয়ে আঘাত করেছে। তার দাবি, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও উসকানিমূলক ভাষা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা বলেন, বিরোধী মতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা যেতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত অবমাননা কিংবা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আবুল কাউছার আশা বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে পুরো দলকে দোষারোপ করার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, কোনো ব্যক্তি বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় পুরো দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সমাজে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানেই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করা নয়; বরং সব ধরনের অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধেই সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন কিংবা গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই গণআন্দোলন সফল হয়েছে। তাই এ ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে বিএনপি নেতারা গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথাও তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিএনপি বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিল এবং সেই ইতিহাসকে অস্বীকার করা রাজনৈতিকভাবে সঠিক হবে না।
এছাড়া জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন বক্তারা। তারা বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা থাকলেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মতাদর্শগত পার্থক্য স্পষ্ট। তাই রাজনৈতিক বিতর্কে যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সব রাজনৈতিক শক্তির প্রধান অঙ্গীকার।
