নারায়ণগঞ্জে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলে পাসের হার আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর নারায়ণগঞ্জ জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭২ দশমিক ২০ শতাংশ। মোট ২৭ হাজার ৮২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২০ হাজার ৮৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৪৩ জন

গত বছর জেলায় এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৬২ জন, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৩ জনে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আতিকুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে রূপগঞ্জ

জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যার দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা সবচেয়ে এগিয়ে। সদর থেকে এবার ৮১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া রূপগঞ্জে ২৪৬ জন, সোনারগাঁয়ে ১৩০ জন, আড়াইহাজারে ৭৯ জন এবং বন্দরে ৭৬ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ এই গ্রেড অর্জন করেছে।

তবে পাসের হারের হিসাবে সবচেয়ে ভালো করেছে রূপগঞ্জ উপজেলা। সেখানে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ সদরে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সোনারগাঁয়ে ৭২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং বন্দরে ৭১ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার আড়াইহাজারে—৬৪ দশমিক ১৬ শতাংশ

দাখিল ও ভোকেশনালেও ভিন্ন চিত্র

সমমানের পরীক্ষাগুলোর ফলাফলেও পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার নারায়ণগঞ্জে ৩ হাজার ৪৮৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৩২২ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৭ দশমিক ৩১ শতাংশ।

দাখিলে এবার ৯১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৯২ জন।

এদিকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ হাজার ৭৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ২০৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫০ জন শিক্ষার্থী। গত বছর ভোকেশনালে পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল এবারকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জে এবারের এসএসসি ফলাফলে পাসের হার বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক থাকলেও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version