নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে গিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব। পরে তাঁর নেতৃত্বে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ওই কার্যালয়ে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাত্র শিবিরের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার একটি আয়োজন চলছিল। রাজীবের আগমনের খবর পেয়ে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা তাকে কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান।

বৈঠকে সম্প্রতি সরকারি তোলারাম কলেজকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আলোচনায় উভয় পক্ষই ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর দেয়।

আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি না করাই সবার প্রধান দায়িত্ব। কোনো ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা যেন আর সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় আজিজুল ইসলাম রাজীব আহত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। আহতদের মধ্যে তামিমসহ অন্যদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকে উভয় পক্ষের নেতারা সরকারি তোলারাম কলেজে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন তৃতীয় কোনো ছাত্রসংগঠনকে সুযোগ করে দিতে না পারে। কলেজ ক্যাম্পাসে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বৈঠকে আরও বলা হয়, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। পারস্পরিক সহনশীলতা ও সংযমের মাধ্যমেই পরিস্থিতি শান্ত রাখা সম্ভব বলে মত দেন নেতারা।

শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই তোলারাম কলেজসহ নারায়ণগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এই বৈঠককে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version