নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ টাইমস ২৪ ডটকম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সায়াহওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ বর্তমানে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘হটস্পট’। তবে সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে শতাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশের আরও কয়েকটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি, যা স্বস্তিদায়ক। তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ডেঙ্গু উৎপাদনের হটস্পট নারায়ণগঞ্জ। তাই এ জেলাকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।”

সায়াহওয়াত হোসেন আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের চিকিৎসা সেবার মান রাজধানীর সঙ্গে তুলনীয় হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। জেলার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো সমস্যা বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে চিকিৎসক ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাসা, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সমন্বিত কার্যক্রমের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version