দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে থাকা কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উচ্ছেদ কার্যক্রমের ফলে বহুদিন ধরে থমকে থাকা প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে রেলওয়ের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদ শেষে এলাকাটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত করার কাজও শুরু হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম খান জানান, ডাবল রেললাইন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বহুবার অবৈধ দখলদারদের জায়গা ছাড়ার জন্য মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে নির্দেশনা অনুসরণ না করায় শেষ পর্যন্ত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, জায়গা খালি হওয়ায় এখন দ্রুতগতিতে ডাবল লাইনের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রকল্পটি মূলত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানো, যাত্রীসেবা উন্নত করা এবং সময়সূচির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে প্রায় ৩৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করা যায়নি। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও প্রকল্পটি প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনায় পাঁচটি নতুন স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, একটি অফিস-কাম-স্টেশন ভবন, ১১টি ব্রিজ ও কালভার্ট, চারটি পথচারী সেতু, সীমানা প্রাচীর এবং দুটি ওয়াশপিট নির্মাণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা, অবৈধ দখল এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সমস্যার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। ফলে ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যাত্রীদের প্রত্যাশিত সেবার উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। সর্বশেষ উচ্ছেদ অভিযানকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, ডাবল রেললাইন চালু হলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যাত্রাসময় কমবে এবং প্রতিদিন হাজারো যাত্রী আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ দখলমুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। প্রকল্পের বাকি কাজও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই অগ্রগতি ডাবল রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের নতুন আশার বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
