নারায়ণগঞ্জ, ১৯ জুলাই: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং সারাদেশে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় নারায়ণগঞ্জেও একটি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর ওসমানী স্টেডিয়ামে নারায়ণগঞ্জ ফুটবল একাডেমির আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের খালি জায়গাগুলোতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও বর্তমান সরকার খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও নতুন মাঠ তৈরিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে দেশের ৩০০ সংসদ সদস্যের কাছে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের জন্য আট বিঘা করে জমি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকরা ইতোমধ্যে মাঠের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার কার্যক্রম শুরু করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, সারাদেশে প্রথম ধাপে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে একটি হবে নারায়ণগঞ্জে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাতেই একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশের ২২টি জেলার সুইমিংপুল সংস্কার করা হবে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি জেলায় একটি করে নতুন সুইমিংপুল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, যার প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলার গুরুত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে নতুন ২০টি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে পরীক্ষার ৬০ শতাংশ মূল্যায়ন মাঠভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে।

তার ভাষায়, “শিক্ষার্থীদের নম্বরের বিষয়টি যুক্ত হলে অভিভাবকেরাও সন্তানদের মাঠমুখী হতে উৎসাহিত করবেন। এভাবেই তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজিব, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version