নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার আগেই নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জেলার বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের বিতর্কিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, যা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুল এলাকায় ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের আগেই নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের যেকোনো কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। তাদের মতে, জনমতের যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া জোরপূর্বক কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগকেই বহন করতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটার চালু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিলের হিসাব, অতিরিক্ত চার্জ, রিচার্জ-সংক্রান্ত জটিলতা এবং জরুরি মুহূর্তে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জনআস্থা তৈরি না করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা ঠিক হবে না বলেও মত দেন বক্তারা।

সভায় উপস্থিত বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নাগরিক প্রতিনিধিরা বলেন, বিদ্যুৎ সেবার মানোন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকসেবার মান বাড়ানোই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার। মানুষের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান না করে নতুন একটি বিতর্কিত ব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলেও নাগরিক প্রতিনিধিরা স্পষ্টভাবে জানান, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকের আগে এই দাবি পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

বৈঠকে ডিপিডিসির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. হানিফ, ডিপিডিসির আইসিটি বিভাগের ডিজিএম কামরুল হাসান, প্রধান প্রকৌশলী (সাউথ) মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার আগে নারায়ণগঞ্জবাসীর উদ্বেগ ও মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তারা মনে করেন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যথায় প্রিপেইড মিটার ইস্যুতে সৃষ্ট বিতর্ক আরও গভীর হতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version