নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনে আপত্তি জানানো গ্রাহকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-র বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ‘জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার চাই না, প্রিপেইড মিটার বাতিল চাই’—এই দাবিতে গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ডিপিডিসির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপিও দেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অনেক গ্রাহক প্রিপেইড মিটার নিতে না চাইলে তাদের অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। এমনকি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

গ্রাহক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে পরিমাপ পত্রিকার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক শরীফ সুমন একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, শহরের একটি ভবনের মালিক গোকুল কৃষ্ণ পালের জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল ২ হাজার ২২৮ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৪৬৩ টাকা, মার্চে ১ হাজার ৮৫৩ টাকা, এপ্রিলে ২ হাজার ২১ টাকা এবং মে মাসে মাত্র ৮৮৮ টাকা। অথচ জুন মাসে একই গ্রাহকের নামে হঠাৎ ১২ হাজার ৪৯২ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। তার দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক বিল নয়; বরং প্রিপেইড মিটার গ্রহণে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।

এ ধরনের অভিযোগ শুধু একজনের নয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া আরও অনেক গ্রাহক জানান, আগের মাসের তুলনায় তাদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ বা তারও বেশি এসেছে। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের মানসিকভাবে চাপে ফেলে প্রিপেইড মিটার গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে।

একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কয়েকদিন আগে তার বাসায় ডিপিডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এসে জানান, আশপাশের সবাই প্রিপেইড মিটার নিয়েছেন, তাই তাকেও নিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। পরে তিনি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আশপাশের অনেক বাসাতেই এখনো প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়নি। তার অভিযোগ, ভুল তথ্য দিয়ে তাকে ভয় দেখিয়ে সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, আগে প্রতি মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ বিল পৌঁছে দেওয়া হতো। কিন্তু চলতি মাসে ২০ জুলাই পেরিয়ে গেলেও অনেক গ্রাহকের কাছে বিল পৌঁছেনি। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিপিডিসির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী কামাল হোসেন জানান, যেসব গ্রাহকের অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত বিল এসেছে, তারা বিলের কপি নিয়ে তার দপ্তরে যোগাযোগ করলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, প্রকৃত ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হবে এবং গ্রাহকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে গ্রাহকরা দাবি জানিয়েছেন, জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে এবং যেসব গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাঠানো হয়েছে, সেগুলো দ্রুত তদন্ত করে সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তারা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version