নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ফতুলায় বিশেষ অভিযানে দুই সহোদরকে আটক করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তিনি সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। একই অভিযানে আটক করা হয় তার ভাইকেও। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ফতুলা থানার পাগলার পিয়ারসন এলাকার একটি সড়কে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় শফিকুল ইসলাম শুভ (৩২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার ভাই শিমুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

আটক শফিকুল ইসলাম শুভ ও তার ভাই শিমুল ফতুলার পিয়ারসন গণিকুঞ্জি বাড়ির মোড় এলাকার বাসিন্দা। তারা জাকিরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, শুভ দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। অন্যদিকে তার ভাই শিমুলও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে।

ফতুলা মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, অভিযানের সময় দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, অপরাধ বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কারণে অভিযানে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। তারা আশা করছেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে আটক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত নয়। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন হিসেবেই বিবেচিত হবে।

ঘটনাটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকেই সবার নজর।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version