নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ ও নোয়াদ্দা এলাকায় চলমান খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির রাজনৈতিক সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কাওসার আশা। পরিদর্শনকালে তিনি খালের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং সংস্কার কাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের স্বেচ্ছায় খালের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে এলাকায় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, খাল কিংবা সরকারি জমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকতে পারে না। সমাজে প্রভাবশালী বা বিত্তশালী পরিচয় দিয়ে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং জনস্বার্থে খাল পুনরুদ্ধারের কাজে কোনো ধরনের বাধা সহ্য করা হবে না।
আবুল কাওসার আশা বলেন, “খাল ও সরকারি জমি সাধারণ মানুষের সম্পদ। যারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এসব জায়গা দখল করে রেখেছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ উদ্যোগে দখলমুক্ত করুন। অন্যথায় প্রশাসনের সহযোগিতায় আইন অনুযায়ী কঠোর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের নির্দেশনা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করাই তাদের লক্ষ্য। রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতা—কোনো কিছুই অবৈধ দখলের বৈধতা দিতে পারে না। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। তাই উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
দখলদারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কেউ দখল ছেড়ে না দিলে প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে নবীগঞ্জ ও নোয়াদ্দা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে খাল দখল ও জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা তুলে ধরে দ্রুত দখলমুক্ত করে পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান। এ সময় এলাকাবাসী খাল উদ্ধারে নেওয়া উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের মতে, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে এবং পরিবেশেরও উন্নতি হবে। এজন্য তারা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন শেষে অ্যাডভোকেট আবুল কাওসার আশা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া এই উদ্যোগ সফল করতে অবৈধ দখলদারদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। অন্যথায় প্রশাসনের সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং খাল পুনরুদ্ধারের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।
