নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ টাইমস ২৪
নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ভুয়া পরিচয় ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশি নাগরিক সেজে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই শুরু করলে তার পরিচয়ের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
সোমবার (২৭ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এ ঘটনা ঘটে। পরে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফতুলা মডেল থানা পুলিশ অভিযুক্ত নারীকে আটক করে। আটককৃত নারীর নাম তানজিনা আক্তার সেতারা (২৪)।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই নারী বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে পাসপোর্ট অফিসে যান। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনার সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। এরপর তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি বিভিন্ন তথ্য দিলেও পরে নিজের প্রকৃত পরিচয় স্বীকার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি জানান, তিনি মূলত মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করেন। বাংলাদেশি পরিচয় ব্যবহার করে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
ফতুলা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সনজিত জোয়ারদার জানান, পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার সময় নথিপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন কর্মকর্তারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক নন।
ফতুলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, আটক নারী ভুয়া পরিচয় ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। পাসপোর্ট অফিসের যাচাই প্রক্রিয়ায় বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অন্যান্য নথির সমন্বিত যাচাই করা হয়। ফলে ভুয়া তথ্য বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে পরিচয় গোপন করার চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই শনাক্ত হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি নথি সংগ্রহের চেষ্টার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, শুধু এই ঘটনাই নয়, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জাল কাগজপত্র প্রস্তুত ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের দাবি, সরকারি পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর অপরাধ। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পাসপোর্ট অফিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
