স্টাফ রিপোর্টার | সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ
দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মীরেরবাগ গ্রামের বাসিন্দা সুলতান। সমাজে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে তিনি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে আর কখনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সহ-সভাপতি মো. আল মুজাহিদ মল্লিকের কার্যালয়ে এ মুচলেকা প্রদান করা হয়। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
মুচলেকায় সুলতান উল্লেখ করেন, তিনি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। বৈধ ও সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে বসবাস করবেন। তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, আইন মেনে চলবেন এবং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে সুলতান বলেন, অতীতে তিনি ভুল পথে ছিলেন, তবে এখন সেই জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে বাঁচতে চান। তিনি বলেন, “আমি আর মাদক ব্যবসা করব না। সৎভাবে উপার্জন করে পরিবার নিয়ে শান্তিতে জীবন কাটাতে চাই। আমাকে যে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তার মর্যাদা রাখব এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে জড়াব না।”
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আল মুজাহিদ মল্লিক বলেন, কেউ যদি আন্তরিকভাবে অপরাধ ও মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাহলে সমাজের উচিত তাকে সেই সুযোগ করে দেওয়া। তিনি জানান, সুলতানের জীবিকার ব্যবস্থা করতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি বৈধভাবে আয় করতে পারেন এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়েন।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সহযোগিতার মাধ্যমেই একজন মানুষকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা যায়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এলে আরও অনেক ব্যক্তি নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামপুর ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি আলমগীর হোসেন, জামপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ এবং জামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রোকন ভূঁইয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা পুনর্বাসনমূলক এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সমাজের অন্যদেরও অপরাধমুক্ত জীবনে ফিরিয়ে আনতে এমন উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান যেমন জরুরি, তেমনি যারা সত্যিকার অর্থে অপরাধ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের জন্য কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে যেমন অপরাধ কমতে পারে, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনও আসতে পারে।
এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে সুলতানের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্টদের ধারাবাহিক নজরদারি ও সহযোগিতার ওপর। তবে অপরাধ থেকে ফিরে আসতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী পুনর্বাসন উদ্যোগ হিসেবে ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
