নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
রূপগঞ্জে পৈতৃক ভিটা-মাটি, কৃষিজমি ও ভূমির ন্যায্য মূল্য রক্ষার দাবিতে গণসমাবেশ, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ভূমি মালিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অবৈধভাবে জমি দখল, বালু ভরাট এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হন বক্তারা। তাদের অভিযোগ, কিছু আবাসন কোম্পানি ও প্রভাবশালী মহলের কর্মকাণ্ডের কারণে বহু পরিবার তাদের জমি ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের আহাম্মদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের শতাধিক ভূমি মালিক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচির শুরুতেই জমির মালিকদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, উন্নয়নের নামে কৃষিজমি ও পৈতৃক ভিটা দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, কিছু আবাসন কোম্পানি প্রভাব খাটিয়ে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাট করছে এবং প্রকৃত মালিকদের মতামত ও অধিকার উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে বহু কৃষক পরিবার তাদের আয়ের প্রধান উৎস হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ অনুসরণ, ভূমির প্রকৃত মালিকদের সম্মতি এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় উন্নয়নের সুফলের পরিবর্তে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন অবশ্যই হতে হবে মানুষের অধিকার ও আইনের প্রতি সম্মান রেখে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ভূমি মালিক রফিকুল ইসলাম, ইলিয়াস পারভেজ, আহসান উল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট নাজমুল, সুমন চৌধুরী, রূপগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, আমারা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম উদ্দিন, রূপগঞ্জ সোশ্যাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন, বিরাব প্রগতি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাসুম মিয়া, বিএনপি নেতা ফিরোজুল মাস্টার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল খান, হাসান মোর্শেদ, মিল্লাত হোসেনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ, দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জমি রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। আন্দোলনকারীরা বলেন, তাদের দাবি দীর্ঘদিনের এবং এটি কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের নয়; কৃষিজমি, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন।
কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামী ৭ আগস্ট সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে। পাশাপাশি ২৮ আগস্ট ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে যার যার জমি শনাক্তকরণের কর্মসূচিও পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ভূমি মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং আইন অনুযায়ী প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
