স্টাফ রিপোর্টার | নারায়ণগঞ্জ
পরিবেশ দূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। আগামী সাত দিনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলকারী সব বাস ও ট্রাক থেকে হাইড্রোলিক হর্ন অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জকে দেশের প্রথম ‘হাইড্রোলিক হর্নমুক্ত’ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নবিষয়ক এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রাহাতান কবির। এতে জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি, ট্রাক মালিক সমিতি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক শহরের ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণের বিষয়টি তুলে ধরে গণপরিবহনে ব্যবহৃত উচ্চ শব্দের হাইড্রোলিক হর্ন অপসারণে সংশ্লিষ্ট মালিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত শব্দ শুধু জনদুর্ভোগই সৃষ্টি করে না, এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি। তাই এ বিষয়ে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী জানান, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি তারা পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলকারী সব বাস থেকে হাইড্রোলিক হর্ন খুলে ফেলা হবে।
একই সঙ্গে জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিনও এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ট্রাক মালিকরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব যানবাহন থেকে হাইড্রোলিক হর্ন অপসারণ করবেন এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
জেলা প্রশাসক রাহাতান কবির বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস মালিক সমিতিকে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হবে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জকে দেশের প্রথম ‘হাইড্রোলিক হর্নমুক্ত জেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, শুধু হাইড্রোলিক হর্ন অপসারণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। ভবিষ্যতেও নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুদুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা সারোয়ার সোহেল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠন, সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব হবে। তারা আশা করছেন, পরিকল্পনাটি সফল হলে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ আরও বাসযোগ্য হবে এবং অন্য জেলাগুলোর জন্যও এটি একটি অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠবে।
