নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ টাইমস ২৪

নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নগরী হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসমৃদ্ধ নজরদারি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভূঁইয়া দীপু। তিনি বলেন, অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্মার্ট নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তাই নারায়ণগঞ্জকে একটি ‘সেইফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জেলার উন্নয়ন, অবকাঠামো, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এমপি দীপু বলেন, প্রতিদিন ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। তবে যানজট ও নগর ব্যবস্থাপনার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা গেলে যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন সহজ হবে, তেমনি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক গতি আসবে।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ জেলা হলেও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর ক্ষেত্রে এখনও অনেক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। এআই প্রযুক্তিভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হলে অপরাধ সংঘটনের আগে ও পরে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনীতিতে নারায়ণগঞ্জের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় জিডিপিতে জেলার অবদান উল্লেখযোগ্য হলেও উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ কারণে নারায়ণগঞ্জকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে উন্নীত করে ‘স্পেশাল ক্যাটাগরি’ জেলার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তার মতে, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি আয়ের বিবেচনায় এ ধরনের স্বীকৃতি জেলার উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

এমপি দীপু বলেন, নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটাতে পারলে নারায়ণগঞ্জকে দেশের অন্যতম আধুনিক শিল্পনগরীতে পরিণত করা সম্ভব। তিনি ব্যবসায়ী সমাজ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মামুনুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর, পরিচালক খন্দকার সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সোহাগ, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, মো. মিজিবুর রহমান, আহমেদুর রহমান তনু, মো. হানিফ সরদার, মো. গোলাম সারোয়ার সাঈদ, বিকাশ চন্দ্র সাহাসহ চেম্বারের অন্যান্য পরিচালক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিল্পবান্ধব পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে আরও বিনিয়োগবান্ধব ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version