নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ টাইমস ২৪
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে পরিচালিত চারটি চুনা কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কারখানাগুলোতে অবৈধভাবে স্থাপিত শত শত ফুট গ্যাস পাইপলাইন অপসারণ ও সংযোগে ব্যবহৃত বার্নার ধ্বংস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের রাজস্ব ক্ষতি রোধ এবং বৈধ গ্যাস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সোনারগাঁ উপজেলার সোনাখালী ও প্রতাপনগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চারটি চুনা কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় প্রায় ৬৩০ ফুট অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন অপসারণ করা হয় এবং সংযোগে ব্যবহৃত চারটি বার্নার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিলা। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অভিযানে অংশ নেন।
তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাগুলো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার কারণে শুধু সরকারের রাজস্বই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল না, একই সঙ্গে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। এছাড়া এ ধরনের সংযোগ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে বলে সতর্ক করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে সম্প্রতি তিতাস গ্যাস বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে চিহ্নিত স্থাপনাগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই সোনারগাঁর চারটি চুনা কারখানায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও এবার প্রশাসনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বন্ধে এমন অভিযান আরও জোরদার করা উচিত।
তিতাস গ্যাসের মেঘনাঘাট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সুব্রত কুমার জানা বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে রাষ্ট্র প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারায়। তাই নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
অভিযানে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান, জহফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে শিল্পকারখানা পরিচালনার ঘটনা ধরা পড়লে শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্নই নয়, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বৈধ সংযোগ ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা পরিচালনা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের মতে, জাতীয় সম্পদ রক্ষায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
