নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের হকারদের পুনর্বাসনকে কেন্দ্র করে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসনের কাজ চলাকালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, হকার পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের পাশের একটি নির্ধারিত এলাকায় বালু ফেলে জমি সমতল করার পাশাপাশি ইট বিছানোর প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে এবং নির্মাণাধীন বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ও বিছানো ইট সরিয়ে দেয়।
অভিযানে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন (ডাবল লাইন) প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ে পুলিশও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, রেলওয়ের মালিকানাধীন জমিতে অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কিংবা দখল আইনসম্মত নয়। চলমান বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের স্বার্থে জমি দখলমুক্ত রাখতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাহাবউদ্দিন খান রেলওয়ের পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের সুযোগ ছিল। কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়া এভাবে অভিযান চালানো হলে পুনর্বাসন কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে এর ভোগান্তি সাধারণ মানুষকেই পোহাতে হয়। প্রয়োজন হলে আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় রেলওয়ে প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রউফ জানান, ডাবল রেললাইন প্রকল্প দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রেলওয়ের জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখা জরুরি। তিনি বলেন, জমি খালি না থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত কাজ এগিয়ে নিতে পারবে না এবং এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রেলওয়ের মালিকানাধীন জমিতে স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো অবৈধ দখল মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে হকারদের দাবি, পুনর্বাসনের স্থায়ী ব্যবস্থা ছাড়া তাদের উচ্ছেদ করা হলে জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে। তারা চান, একদিকে যেমন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও বিকল্প ও টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই হকার পুনর্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আলোচিত। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও পুনর্বাসন নিয়ে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় একই সংকট বারবার ফিরে এসেছে। সর্বশেষ ঘটনায় রেলওয়ে ও সিটি করপোরেশনের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় হকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন হকাররা এবং নগরবাসী।
