স্টাফ রিপোর্টার | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি রাসেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি দেশীয় শটগান, চার রাউন্ড গুলি এবং ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ সিপিএসসি ও র্যাব-২-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পাইকপাড়া এলাকা থেকে রাসেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত রাসেল আহমেদ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কুরবানপুর এলাকার মৃত সাফাউল্লার ছেলে।
র্যাবের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাসেল পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কুরবানপুর ও শান্তিনগরসহ আশপাশের এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করছিলেন। শিল্পকারখানা, ড্রেজিং কার্যক্রম, আবাসন প্রকল্প, ইট-বালুর সরবরাহ, স্ক্র্যাপ (ভাঙারি) ব্যবসা ও নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, টেঁটাযুদ্ধ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো একাধিক ঘটনায়ও তার বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তারের পর রাসেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে সোনারগাঁ উপজেলার কুরবানপুর এলাকায় তার বাড়ির পাশের একটি গোডাউন থেকে একটি দেশীয় শটগান, চার রাউন্ড গুলি এবং ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাবের তথ্যমতে, রাসেলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১২টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাসেল আহমেদকে সোনারগাঁ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নির্মূলে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
