নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় প্রায় ২১ লাখ টাকা মূল্যের ড্রেজারের পাইপ ও যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় প্রধান আসামি হিসেবে বিএনপির সাবেক নেতা কাজল প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বন্দরের সালেহনগর এলাকায় রূপালী গেট বাগান ও কাইল্লা মিয়ার বাড়ির সামনে ড্রেজার ব্যবসায়ী মরহুম হাজী মো. আতিকুর রহমানের ১২ ইঞ্চি ড্রেজার পাইপ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংরক্ষিত ছিল। তার মৃত্যুর পর ছেলে শিমন হাসান পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ড্রেজারের মালামাল তত্ত্বাবধান করে আসছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো এক সময়ে কাজল প্রধান ও তার ৫ থেকে ৬ জন সহযোগী সেখানে থাকা ড্রেজারের ৮৫টি ১২ ইঞ্চি পাইপ এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া পাইপগুলোর আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ টাকা এবং যন্ত্রাংশের মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।
ঘটনার পর ব্যবসায়ী শিমন হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে মালামাল না পেয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গোপন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, চুরি হওয়া পাইপ ও যন্ত্রাংশ নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন ভাঙারি (স্ক্র্যাপ) দোকানে বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত কাজল প্রধানকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত কাজল প্রধান বন্দর থানা বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলায় উল্লেখিত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া পাইপ ও যন্ত্রাংশ কোথায় বিক্রি করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃত কাজল প্রধানকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মূল্যবান যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
