নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটতলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) ভবন নির্মাণের আট বছর পার হলেও সেখানে আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় আধুনিক এ সরকারি স্থাপনাটি ধীরে ধীরে অবহেলা ও অযত্নে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আবারও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কেন এত বড় একটি সরকারি সম্পদ বছরের পর বছর অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকবে?
নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কে অবস্থিত ভবনটি ২০১৮ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণ শেষে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে। তবে ভবনটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনজীবীদের আপত্তির কারণে সেখানে নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভবনের একটি অংশেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু অব্যবহৃত ভবনটি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তিনি ভবনটি দ্রুত জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে অধিকাংশ জেলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একই প্রাঙ্গণে বা কাছাকাছি অবস্থিত। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে নতুন সিজেএম ভবনটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নির্মাণ করা হয়। আইনজীবীদের মতে, এতে বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য, বিচারপ্রার্থী এবং আসামিদের প্রতিনিয়ত দুই স্থানে যাতায়াত করতে হবে, যা বিচারিক কার্যক্রমে জটিলতা ও অতিরিক্ত ভোগান্তির সৃষ্টি করবে।
আইনজীবীদের আপত্তির ফলে ভবনটি চালুর উদ্যোগ স্থগিত হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে আর কার্যকর কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি অবকাঠামোটি ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ভবনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনা অযত্নে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, যদি বিচারিক কার্যক্রম সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব না হয়, তাহলে ভবনটি অন্য কোনো জনসেবামূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত। অতীতে এটিকে আধুনিক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাবও উঠেছিল। এমনকি করোনা মহামারির সময় ভবনের একটি অংশ সাময়িকভাবে নমুনা পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা হলেও পরে সেটি আবার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ আট বছর ধরে একটি আধুনিক সরকারি ভবন অকার্যকর পড়ে থাকা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়হীনতারও প্রতিফলন। তাদের মতে, দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবনটিকে জনস্বার্থে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন সরকারের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের এ অচলাবস্থার অবসান ঘটবে এবং ৫৫ কোটি টাকার সরকারি সম্পদ আর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকবে না।
