সোনারগাঁও প্রতিনিধি:
সোনারগাঁওয়ের অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উচ্ছেদ অভিযানের মাত্র এক মাস পার হতে না হতেই আবারও ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় এই অবৈধ পুনর্দখল চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, ফুটপাত পুনর্দখলের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক কমিটির (এনসিপি) স্থানীয় নেতা তুহিন মাহমুদ। মাত্র এক মাস আগে সওজের উচ্ছেদ অভিযানের সময় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া তার একটি দূরদর্শী স্ট্যাটাস এখন এলাকায় বেশ টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
তখন ফেসবুক পোস্টে তুহিন মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছিলেন, “দখল বাণিজ্যের মূল চাঁদাবাজদের কেন আইনের আওতায় আনা হয় না? মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ফুটপাত আবারও দখল হবে, গরিব দোকানদারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা উঠবে—তারপর উচ্ছেদ করে আবার সেই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটকেই নতুন করে টাকা আয়ের এবং দখলের সুযোগ করে দেওয়া হবে—এ কেমন ব্যবস্থা?”
আজ দীর্ঘ এক মাস পর বাস্তবে ঠিক তা-ই রূপ নিয়েছে। উচ্ছেদের পর কিছুদিন ফুটপাত ফাঁকা থাকলেও বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্র ও স্থানীয় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের ইশারায় গরিব দোকানদারদের বসিয়ে আবারও লাখ লাখ টাকার চাঁদা বাণিজ্য শুরু হয়েছে।
স্থানীয় পথচারী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান যেন কেবলই একটি নাটক। অভিযানের নামে ফুটপাতের অস্থায়ী গরিব দোকানদারদের কোটি কোটি টাকার মালামাল ও পুঁজি নষ্ট করা হয়, অথচ মূল চাঁদাবাজরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে উচ্ছেদ শেষ হতেই নতুন করে টাকা দিয়ে আবারও দোকান বসাতে বাধ্য হন বিক্রেতারা। মাঝখান থেকে লাভবান হয় কেবলই সেই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।
ব্যস্ততম এই মহাসড়ক সংলগ্ন ফুটপাত আবারও দখল হয়ে যাওয়ায় তীব্র যানজট ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের সুফল ধরে রাখতে এবং এই স্থায়ী চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
