নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকার ‘জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভান্ডার’ লাড্ডুর সুনাম দেশজুড়ে। শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়; আশপাশের জেলা থেকে এখানে এসে মানুষ লাড্ডু কিনে থাকেন। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই মানুষজন দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে লাড্ডু কিনছেন। সেইসঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য ধর্মের লোকজনও এসে এই লাড্ডু কিনছেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে শহরের ৮১ নম্বর বঙ্গবন্ধু সড়কের উকিলপাড়া এলাকায় মতিউল হকের টিনের দোকান ভাড়া নিয়ে ‘জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভান্ডার’ চালু করেন সোনাতন ঘোষ। সোনাতন ঘোষ নিজে মিষ্টি তৈরির কারিগর ছিলেন। শুরুতে আগুনে ছেঁকা আটার রুটি, পরোটা, ভাজি, হালুয়া ও বুটের ডাল এবং মিষ্টির মধ্যে লাল মোহন, রসগোল্লা, কালোজাম ও চমচম বিক্রি করতেন তিনি। সেইসময় তার দোকানের মিষ্টির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
সোনাতন ঘোষকে সবাই ‘সোনাই ঘোষ’ নামে ডাকতেন। সেই থেকে তার নামের সঙ্গে মিলিয়ে জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভান্ডারকে সোনাই ঘোষের মিষ্টির দোকান হিসেবে চিনে থাকে। ১৯৯৬ সালে সোনাই ঘোষের মৃত্যুর পর তার একমাত্র ছেলে সুখদেব ঘোষ ব্যবসার হাল ধরেন। পরবর্তীতে পরোটা-ভাজি বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে শুধু দই-মিষ্টির ব্যবসা ধরে রাখেন। একইসঙ্গে পূজার সময় লাড্ডু বিক্রি করে থাকেন। পূজার সময় ছাড়া লাড্ডু বিক্রি করা হয় না।
এবারের শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন দুই পদের লাড্ডু মিলিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ মণ লাড্ডু বিক্রি করা হয়েছে। এক পদের লাড্ডু তৈরি হয় সরের ঘি দিয়ে, যার কেজি ৭০০ টাকা। আরেক পদের লাড্ডু তৈরি হয় মাখনের ঘি দিয়ে, যার কেজি ৫০০ টাকা।
জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভান্ডারের বর্তমান মালিক সুখদেব ঘোষ বলেন, বাবা এই দোকান চালু করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর আমি এই ব্যবসার হাল ধরেছি। বাবা যে সুনাম অর্জন করেছিলেন সেই সুনাম ধরে রেখেই মিষ্টি বিক্রি করে আসছি। পূজার সময় এই লাড্ডু বিক্রি করে থাকি। আমার এখানে লাড্ডুর চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু মান ধরে রাখার জন্য পরিমাণে কম বিক্রি করে থাকি। আমরা লাড্ডু তৈরি করি ঘি দিয়ে। আরও কিছু বিষয় আছে। আমরা চেষ্টা করে থাকি যারা এই লাড্ডু খাবে তারা যেন পরিপূর্ণ স্বাদ পায়।
